ইসলামের দৃষ্টিতে একজন আদর্শ শিক্ষকের পরিচয়

যে ব্যক্তি শিক্ষক ছাড়া শুধু বই পুস্তক পড়ে বিদ্যা অর্জন করে, সে কোনো দিন শিক্ষার পুর্ণতায় পৌঁছতে পারে না। বিজ্ঞ জনেরা বলেছেন, যার কোনো শিক্ষক নেই তার শিক্ষক শয়তান। মনীষীগণ আরো বলেছেন, শিক্ষকের দৃষ্টান্ত একজন মালীর মতো। একটা বাগানের সমৃদ্ধি যেমন মালীর পুর্ণ দৃষ্টির ওপর নির্ভর করে তেমনিভাবে একজন শিক্ষার্থীর জীবনের উন্নতি-অবনতি শিক্ষকদের দৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।

শিক্ষকের মর্যাদা : ইসলাম শিক্ষককে মহান ব্যক্তিত্ব ও শ্রদ্বার পাত্র হিসেবে স্বীকৃতি দান করেছে। যার বিবরণ কোরআন ও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন,  الرحمن علم القرأن  করুনাময় শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা নিজেই সর্বপ্রথম শিক্ষক। সুতরাং যে কাজ আল্লাহ তায়ালা করেছেন উক্ত কাজে যে ব্যক্তি আত্মনিয়োগ করবে তার চেয়ে আর কেউ সম্মানের অধিকারী হতে পারে না।

উল্লেখ্য যে, বর্ণিত আয়াতে আল্লাহ তায়ালার  ‘রাহমান’ নামটি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, একজন শিক্ষকের মধ্যে সর্বপ্রথম যে গুণটি থাকতে হবে তা হলো দয়া। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, انما بعثت معلما আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। শুধু তাই নয় সব নবী রাসূরা পৃথিবীতে শিক্ষক হিসেবেই প্রেরিত হয়েছিলেন। অন্য আরো একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষকদের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, خيركم من تعلم القرأن و علمه  তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি যে নিজে কোরআন মাজীদ শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষকদের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনাই করেছেন, শুধু এতটুকুই নয় বরং তিনি শিক্ষকদের জন্য দোয়াও করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন, نضر الله عبدا سمع مقالتى فحفظها و وعاها و اداها  আল্লাহ তায়ালা সুখি স্বচ্ছল রাখুন ওই ব্যক্তিকে যে আমার কোনো বাণী শোনে তা যথাযথভাবে স্মরণ রাখে এবং সংরক্ষণ করে অন্যের নিকট পৌঁছে দেয়। উপরোল্লেখিত বর্ণনার ভিত্তিতেই হজরত ওমর (রা.) শিক্ষকদেরকে মর্যাদার সর্বোচ্চ আসনে আসীন করেছিলেন।

শিক্ষকতাই শ্রেষ্ঠ কর্ম : সব পেশা হতে শ্রেষ্ঠ ও সম্মান জনক পেশা হচ্ছে শিক্ষকতা। পৃথিবীতে মানুষ যত কর্মে নিয়োজিত আছে, তার মধ্যে শিক্ষকতার শ্রেষ্ঠত্বের সঙ্গে কেউ প্রতিদ্বন্ধিতা করতে পারবে না। তাই সাহাবাদের (রা.) একটা বৃহৎ সংখ্যা শিক্ষক হিসেবে সমাজে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। বড় বড় রাজনীতিবিদ, সমাজনীতিবিদ এবং ধর্মীয় দিক নির্দেশকের ভূমিকায় শিক্ষকরাই ছিলেন অন্যতম। এ জন্যেই ইসলাম শিক্ষককে রূহানী পিতা সাব্যস্ত করেছে।

ইমাম গায্যালী রহ.  বলেন, যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করে এবং মানুষকে শিক্ষা দান করে, আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্বে তাকেই মহান বলা হয়। সে সূর্যের মতো অপরকে আলো দান করে এবং নিজেও আলোকময়। সে মেশকের মতো অপরকে সুগন্ধিতে আমোদিত করে এবং নিজেও সুগন্ধি যুক্ত। আর যে ব্যক্তি অপরকে শিক্ষা দান করে কিন্তু নিজে আমল করে না সে শানের মতো লোহাকে ধারালো করে কিন্তু নিজে কাটে না।

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন انما انالكم مثل الوالد لولد সন্তানের জন্য পিতা যেমন, আমিও তোমাদের জন্য তেমন।  হজরত মুআবিয়া ইবনে হাকাম সুলামী (রা.) বর্ণনা করেন, ما رايت معلما قبله ولابعده احسن تعليما منه فوالله ما قهرني ولا ضربني ولاشتمني- আমি  রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রেষ্ঠ কোনো শিক্ষক পূর্বেও দেখিনি এবং তাঁর পরেও দেখিনি ।