হাড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়

মানবদেহের অন্যতম প্রয়োজনীয় অঙ্গ হাড়। সুস্থ হাড় মানে শক্ত পরিকাঠামো, সচলতা এবং আঘাত থেকে সুরক্ষা। শরীরের সুস্থতার জন্য হাড়কে সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সহায়তাকারী পদার্থ ক্যালসিয়ামের সঞ্চয়স্থান হলো হাড়। তাই হাড়ের সুস্থতা রক্ষা করা খুবই প্রয়োজনীয়। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ এবং সঠিক শরীরচর্চার। একজন পূর্ণবয়স্ক মানবদেহে হাড়ের সংখ্যা ২০৬টি এবং একজন শিশুর তা ৩০০টি। শরীরকে সচল রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গকে রক্ষা করতে সাহায্য করে হাড়। হাড় মূলত প্রোটিন এবং খনিজ পদার্থ, ক্যালসিয়াম, ফসফেট এবং ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে তৈরি।

ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন- ডি ও ভিটামিন- কে ইত্যাদি হাড় সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। হাড়ের পুরাতন কোষসমূহ অনবরত ভেঙে যায় এবং পুনরায় তৈরি হয় নতুন কোষ। তাই ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণে এই কোষ গঠন ভালো হয়। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ১৩শ মিলিগ্রাম এবং বয়স্ক নারীদের দৈনিক ১২শ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা দরকার। দুধ ও দুধজাতীয় খাবার, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, ডাল, মাছ এবং শাকসবজি ইত্যাদি খাবারগুলো প্রচুর ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় তা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

এ ছাড়া, শক্তিশালী হাড় গঠনের জন্য অন্যতম উপাদান হলো ভিটামিন ডি যা সূর্যালোক, চর্বিযুক্ত মাছ, কলিজা এবং পনির ইত্যাদি থেকে পাওয়া যায়। সুস্থ হাড় গঠনের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ অপরিহার্য। কারণ হাড়ের শতকরা ৫০ ভাগই তৈরি হয় প্রোটিন থেকে। এছাড়াও হাড়ের সুস্থতায় শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
শরীরের ৯৯ শতাংশ ক্যালসিয়াম হাড়ে জমা থাকে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ হাড়কে সুস্থ রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *