এক সময়ের মৌসুমি ফল তরমুজ এখন চাষ হচ্ছে বছরজুড়ে। অন্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় অমৌসুমি তরমুজ আবাদে ঝুঁকছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক। এতে ভাগ্য পাল্টে যাচ্ছে তাদের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম-২-এর আওতায় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তরমুজ আবাদ করে খরচের তিনগুণেরও বেশি লাভ হচ্ছে কৃষকের। উন্নত বীজ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে অল্প সময়ে বারোমাসি তরমুজ চাষে তাদের উৎসাহী করছে সরকার।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় এ বছর ১০০ হেক্টর ঘেরের পাড়ে তরমুজের আবাদ হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঞ্চি জায়গা কাজে লাগানোর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অন্য ফসলের পাশাপাশি তরমুজ চাষেও সহায়তা করছি। এই অঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে এক সময় মাছ ছাড়া কিছইু চাষ হতো না। ফলে মাছের ঘেরে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি তরমুজ চাষ শুরু হয়।

কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এই তরমুজ বপনের ২০ থেকে ২৫ দিন পর ফুল আসে এবং ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর তরমুজ ওঠানো শুরু হয়। একটি গাছ থেকে দুই থেকে তিনবার তরমুজ নেওয়া যায়। এক বিঘা জমির ঘেরের পাড়ে তরমুজ লাগাতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয় এবং মাত্র ৬০-৬৫ দিনে প্রায় দুই লাখ টাকার তরমুজ পাওয়া যায়। অন্যান্য ফসলের মতো এটি বিক্রিতে সমস্যা হয় না, সরাসরি ব্যবসায়ীরা ক্ষেতে এসে কিনে নিয়ে যান।

বিকল্প এই চাষে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মোছাদ্দেক হোসেন জানান, এ বছর উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ২০০ কৃষককে তরমুজের বীজ, প্রশিক্ষণ ও মাঠে গিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। ডুমুরিয়ায় সুইট ড্রাগন পাকিজা, এশিয়ান টু, ব্ল্যাক বেবি, তৃপ্তি, কানিয়া, রেড ড্রাগন, সোনিয়া, থাইল্যান্ড-২ জাতের তরমুজ আবাদ হয়েছে। ঝুঁকি কম এবং মূল্য বেশি পাওয়ায় আগামীতে এর আবাদ অনেক বাড়বে। ভালো বীজ ও সার সরবরাহ থাকলে সারাদেশেই এই তরমুজ চাষে বাণিজ্যিক সফলতা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন। উষ্ণ অঞ্চল হওয়ায় রাজশাহীর কোথাও তরমুজের চাষ হতো না। এর পরও রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমিখ্যাত গোদাগাড়ীতে সাত বিঘা জমির ওপর প্রথম বারোমাসি তরমুজ চাষ করে সফল কৃষকের খাতায় নাম লিখিয়েছেন মনিরুজ্জামান মনির। বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকপ্রাপ্ত এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তার কৃষি খামারে মাচায় চাষ হচ্ছে বিদেশি হানি ডিউ ও রক মেলন জাতের তরমুজ। রাজশাহী ও ডুমুরিয়ার পাশাপাশি খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা, রূপসা, কয়রা, তেরোখাদা, দাকোপ; যশোরের কেশবপুর, মমিনপুর; গোপালগঞ্জ, পিরোজপুরের নাজিরপুর, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, কুমিল্লা, বগুড়া, বরিশালের মেহেদীগঞ্জ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, হবিগঞ্জের মাধবপুরে, নওগাঁ ও শরীয়তপুরে বারোমাসি তরমুজ চাষ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এই জাতের তরমুজের আবাদ। কৃষকের মাচায় শসা কিংবা লাউয়ের চেয়েও ঘনত্বে ঝুলে আছে রসাল ফল তরমুজ।